ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার দশদোনা গ্রামের ইয়ামিন মিয়ার মেয়ে ও থানা কলোনি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী রশ্নি আক্তার ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেছে। “ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন”
তার অকাল মৃত্যুতে পরিবার, স্বজন, সহপাঠী ও শিক্ষকদের মাঝে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। বিশেষ করে বাঞ্ছারামপুর থানা কলোনি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিরাজ করছে শোকের ছায়া।
পরিবার সূত্র জানায়, ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী রশ্নি কয়েকদিন আগে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে। অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে দ্রুত ঢাকায় নেওয়া হয়। সেখানে একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার ভোরে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে।
রশ্নির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে দশদোনা গ্রামসহ আশপাশের এলাকায় নেমে আসে শোকের ছায়া। স্বজনদের আহাজারি ও কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। পরিবারের সদস্যরা ছোট্ট রশ্নির মৃত্যুতে বাকরুদ্ধ। স্থানীয়রা বলছেন, “অল্প বয়সে এমন একটি প্রাণ ঝরে যাওয়া অত্যন্ত হৃদয় বিদারক।”
স্কুলে কান্নায় ভেঙে পড়ল সহপাঠীরা: রশ্নির মৃত্যুর খবর থানা কলোনি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পৌঁছালে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মাঝে নেমে আসে গভীর শোকের ছায়া। সহপাঠীরা তাদের প্রিয় বন্ধুকে হারানোর বেদনায় মর্মাহত। অনেকেই স্মৃতিচারণ করে কান্নায় ভেঙে পড়ে।
বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা জানান, রশ্নি ছিল শান্ত, ভদ্র ও মেধাবী একজন শিক্ষার্থী। পড়াশোনার পাশাপাশি সহপাঠীদের সঙ্গে তার আচরণও ছিল অত্যন্ত আন্তরিক। “তার অকাল মৃত্যুতে বিদ্যালয় পরিবারের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। এমন কোমলমতি এক শিক্ষার্থীর চলে যাওয়া কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না” বলেন এক শিক্ষক।
সামাজিক মাধ্যমে শোক: রশ্নির মৃত্যুতে দশদোনা গ্রামসহ বাঞ্ছারামপুরের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ শোক প্রকাশ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও অনেকে তার মৃত্যুতে শোক জানাচ্ছেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।
এলাকাবাসী মরহুমা রশ্নি আক্তারের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে, আজ তার প্রিয় বিদ্যালয় বাঞ্ছারামপুর উপজেলা সদরে অবস্থিত থানাকলোনী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক, ছাত্র- ছাত্রী, এবং ক্লাসের বন্ধুরা ক্লাস শুরুর আগে রশ্নির আত্বার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া পাঠ করেন এবং শোকাহত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন!