ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার ফরদাবাদ ইউনিয়নের রবির বাজারে এলপিজি গ্যাসের মূল্য নির্ধারণে কথিত সিন্ডিকেট, অতিরিক্ত দামে গ্যাস বিক্রি এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পর মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় গ্যাস ব্যবসায়ীরা।
রোববার (৫ জুলাই) বিকেল ৫টায় ফরদাবাদ ইউনিয়নের রবির বাজারে আয়োজিত মানববন্ধনে স্থানীয় গ্যাস ব্যবসায়ীরা অংশ নেন। এ সময় তারা এলপিজি গ্যাসের বাজারে কথিত সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়ে সরকার নির্ধারিত মূল্যে গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানান।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, “আমরা কোনো সিন্ডিকেটের মাধ্যমে গ্যাস কিনতে চাই না। সরকার নির্ধারিত মূল্যে গ্যাস ক্রয় ও বিক্রির সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। বাজারে সুষ্ঠু প্রতিযোগিতা বজায় রেখে ব্যবসা পরিচালনার পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে।”
এর আগে গত ২৯ জুন একদল ক্ষুদ্র গ্যাস ব্যবসায়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগে তারা উল্লেখ করেন, দীর্ঘদিন ধরে নিয়ম মেনে ব্যবসা পরিচালনা করলেও স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি সিন্ডিকেট গড়ে এলপিজি গ্যাসের মূল্য নিজেদের ইচ্ছামতো নির্ধারণ করছেন এবং অন্য ব্যবসায়ীদের কম দামে গ্যাস বিক্রিতে বাধা দিচ্ছেন। অভিযোগপত্রে সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল আজিজ, আনাম মিয়া ও শিপনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগকারী ব্যবসায়ীদের দাবি, পাশের কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার বাঙ্গরা বাজারে প্রতি সিলিন্ডার এলপিজি গ্যাস বাঞ্ছারামপুরের তুলনায় ২০০ থেকে ৩০০ টাকা কম দামে পাওয়া যায়। কিন্তু সেখান থেকে গ্যাস সংগ্রহ করে আনতে গেলে পূর্বহাটি গাবতলী এলাকায় বাধার মুখে পড়তে হয়।
তাদের অভিযোগ, গ্যাসবাহী গাড়ি আটকে গালিগালাজ করা হয় এবং অন্য উপজেলা থেকে গ্যাস বাঞ্ছারামপুরে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না বলে হুমকি দেওয়া হয়। এমনকি দোকানে হামলা ও মালামাল আটকে দেওয়ার ভয়ও দেখানো হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, বাজারে কৃত্রিমভাবে গ্যাসের দাম বাড়িয়ে রাখার কারণে সাধারণ ভোক্তাদের অতিরিক্ত অর্থ গুনতে হচ্ছে। তাই অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বাজারে স্বাভাবিক প্রতিযোগিতার পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।
এ বিষয়ে অভিযোগে নাম থাকা ডিলার ও সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল আজিজ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমরা প্রতিটি গ্যাসের সিলিন্ডারের সঙ্গে ক্যাশ মেমো দিয়ে থাকি এবং মূল্য লিখে দিই। কিন্তু অনেক দোকানদার সেই ক্যাশ মেমো নিতে আগ্রহী নন।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, লিখিত অভিযোগটি যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।