ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে ইয়াবা এনে দিতে রাজি না হওয়ায় অষ্টম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রকে মারধর এবং পরে তার বাবাকেও ক্রিকেট খেলার স্ট্যাম্প দিয়ে পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ উঠেছে দুই যুবকের বিরুদ্ধে।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সকাল ১১টার দিকে বাঞ্ছারামপুর থানাধীন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আহত স্কুলছাত্র আল-আমীন বাঞ্ছারামপুরের একটি উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির বি শাখার শিক্ষার্থী। তার রোল নম্বর ৪০। তার বাবা দুলাল মিয়া। তাদের স্থায়ী ঠিকানা পটুয়াখালীর গলাচিপা থানার কালাই কিশোর এলাকায়। বর্তমানে তারা বাঞ্ছারামপুর ঈদগাহ সংলগ্ন এলাকায় বসবাস করছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বাঞ্ছারামপুর মালিপাড়া এলাকার ইয়াসিন, পিতা ইদ্রিস মিয়া এবং ঈদগাহপাড়া এলাকার রিফাত, পিতা ছেদু মিয়া—দুজন মিলে স্কুলছাত্র আল-আমীনকে ইয়াবা এনে দিতে বলেন। এ সময় আল-আমীন স্কুলে ক্লাস থাকার কথা জানিয়ে ইয়াবা এনে দিতে অস্বীকৃতি জানায়।
এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ওই দুই যুবক আল-আমীনকে এলোপাতাড়ি মারধর করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
পরে বিষয়টি আল-আমীন তার বাবা দুলাল মিয়াকে জানায়। ছেলের ওপর মারধরের কারণ জানতে অভিযুক্তদের কাছে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন দুলাল মিয়া। এ সময় অভিযুক্তরা আল-আমীন ও তার বাবা দুলাল মিয়াকে ক্রিকেট খেলার স্ট্যাম্প দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
মারধরে অষ্টম শ্রেণির ছাত্র আল-আমীনের হাত ও হাতের জোড়ায় গুরুতর আঘাত লাগে। অন্যদিকে তার বাবা দুলাল মিয়ার ঘাড়সহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত লাগে। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় আহত বাবা-ছেলেকে বাঞ্ছারামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।
সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন বলে জানা গেছে।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। স্কুলছাত্রকে মাদক বহনে ব্যবহার করার চেষ্টা এবং এর প্রতিবাদ করায় বাবা-ছেলেকে মারধরের অভিযোগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত ইয়াসিন ও রিফাতেরর বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় থানায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানা গেছে।