ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার রূপসদীতে এক প্রতিবন্ধী ১০ বছরের শিশুকে পেঁপে খাওয়ানোর লোভ দেখিয়ে ধর্ষণচেষ্টার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে বৃদ্ধ মতি মিয়ার (৬৫) বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় প্রতিবন্ধী শিশুটির মা মনিরা বেগম বাদী হয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া আদালতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে ৯-এর ৪-এর (খ) ধারায় গতকাল মঙ্গলবার জেলা নারী ও শিশু আদালতে একটি মামলা দায়ের করেছেন।
মামলার আইনজীবী অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম জানান, প্রধান অভিযুক্ত মতি মিয়া ও তার সহযোগী হিসেবে কাশেম মিয়ার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
আজ বুধবার সরেজমিনে প্রতিবন্ধী শিশুটির বাড়িতে গেলে সাংবাদিকদের দেখে
মা মনিরা বেগম কান্নায় ভেঙে পড়েন।
তিনি জানান, অভিযুক্ত মতি মিয়া গত ২৩ আগষ্ট দুপুরে তার প্রতিবন্ধী মেয়েকে পেঁপে দেওয়ার কথা বলে তাঁর বাগান বাড়িতে নিয়ে যায়। সেখানে তার স্পর্শকাতর স্থানে হাত দিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা চালালে শিশুটির চিৎকার করলে মতি মিয়া পালিয়ে যায়।"
তিনি বলেন, স্থানীয় মিডিয়া ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আমার প্রতিবন্ধী মেয়েকে ধর্ষণর কথা ছড়িয়ে দিলেও সেটি সত্যি নয়।মতি মিয়া ধর্ষনের চেষ্টা করেছে,আমরা আদালতে সে অনুযায়ী মামলা করেছি। তিনি আরো বলেন, "আমার অবুঝ মেয়ের ওপর যে অন্যায় হয়েছে,তার সঠিক ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।"
সালিশ বৈঠক ও কালক্ষেপণের অভিযোগ
শিশুটির চাচা খোকা মিয়া জানান, "আমার ভাই প্রবাসী।আমরা অসহায় পরিবার।
ঘটনার পর বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও মেম্বারদের জানানো হলে তারা বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসার আশ্বাস দেন। তবে কয়েকদিন গড়িয়ে গেলেও বিচার না করে কালক্ষেপণ করা হয় এবং উল্টো ভুক্তভোগী পরিবারকে নানা ধরনের হুমকি-ধামকি দেওয়া হয়।পরে আদালতে মামলা করা হয়েছে। "
এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা আকরাম হায়দার বলেন, "মতি মিয়া কর্তৃক প্রতিবন্ধী মেয়েটির ওপর ধর্ষণচেষ্টার যে ঘটনা ঘটেছে, আমরা তদন্ত সাপেক্ষে এর দৃষ্টান্তমূলক ও কঠিন বিচার চাই।
ঘটনাটিকে পুঁজি করে কেউ যাতে কোনো ধরনের অপরাজনীতি বা নিজেদের প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা না করে সেটা খেয়াল রাখতে হবে।
রুপসদী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি কুদ্দুস মেম্বার বলেন, অপরাধী যে-ই হোক,আমরা তাঁর কঠিনতম শাস্তি চাই।
আজ বুধবার বিকেলে সরেজমিনে অভিযুক্ত মতি মিয়ার বাড়িতে গেলে তার স্ত্রী বিষয়টি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন এবং ঘটনাটিকে ষড়যন্ত্র বলে দাবি করেন।তিনি বলেন,আমাদের ৪ প্রবাসী ছেলে ১ বিবাহিতা মেয়ে রয়েছে। আমাদের বিত্তবৈভবের কারনেই ষড়যন্ত্র চলছে।
মতি মিয়ার যোগাযোগের নম্বর চাওয়া হলে তিনি তা দিতে অস্বীকৃতি জানান।
বাঞ্ছারামপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মোহাম্মদ ইয়াছিন বলেন,
"আমি ঘটনাটি শুনেছি। কেউ এখনো থানায় অভিযোগ করেনি।আদালত থেকে নির্দেশনামা পেলে আমি তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেব। "
বর্তমানে ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে এবং ভুক্তভোগী পরিবারটি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বিধায় এলাকাবাসী প্রশাসনের নিকট পরিবারটির নিরাপত্তার দাবী করেছেন।