ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলায় সরকারি হাসপাতালের রোগীদের ভোগান্তি কমাতে সোলার প্যানেল দিয়ে সহায়তা করেছে বেসরকারি হাসপাতাল। এমনই ব্যতিক্রমী ঘটনার সাক্ষী হলেন বাঞ্ছারামপুর উপজেলার ৫০ শয্যাবিশিষ্ট সরকারি হাসপাতালের রোগী ও চিকিৎসকরা।
চলমান বিরামহীন লোডশেডিংয়ের কারণে বিঘ্নিত হচ্ছে স্বাস্থ্যসেবা। অপরদিকে, অসহ্য গরমে চরম ভোগান্তিতে রয়েছে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীরা। হাসপাতালের নেই কোনো নিজস্ব বিদ্যুৎব্যবস্থা। জেনারেটর থাকলেও মেশিন বিকল হওয়ার কারণে ওই সেবাও পাচ্ছেন না রোগীরা।
ইতিমধ্যে এমন সমস্যার কথা জানতে পারেন স্থানীয় ও স্বনামধন্য বাঞ্ছারামপুর ইসলামী হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সমাজসেবক মো. মোশাররফ হোসেন রিপন।
পরবর্তীতে সাধারণ রোগী ও হাসপাতালের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে বাঞ্ছারামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২৪ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিতের উদ্দ্যোগ নেয় বেসরকারি হাসপাতালটি। আজ বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ৩ লাখ ৭০ হাজার টাকা ব্যয়ে সরকারি হাসপাতালে স্থাপন করা হয় সর্বাধুনিক প্রযুক্তির সোলার ইনভার্টার, লিথিয়াম ব্যাটারি ও অটোমেটিক চেঞ্জওভার সুইচ। এতে হাসপাতালে চিকিৎসাসেবায় বিদ্যুৎ সংকটের যে দীর্ঘদিনের সমস্যা ছিল, তা স্থায়ীভাবে দূর হলো।
এতে করে বিদ্যুৎ বিভ্রাট হলেও হাসপাতালের জরুরি চিকিৎসাসেবা ৪-৫ ঘণ্টা সচল রাখা সম্ভব হবে।
বিকেলের দিকে হাসপাতাল চত্বরে এ সোলার ইনভার্টার উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আল এমরান খান। এ সময় উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রঞ্জন বর্মন, আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মাহমুদ মিয়া, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি আলহাজ দুধ মিয়া মাস্টারসহ হাসপাতালে কর্মরত অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্থানীয় সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
সংশ্লিষ্টরা জানান, নতুন এ সৌরবিদ্যুৎব্যবস্থার মাধ্যমে একসঙ্গে প্রায় ২৫টি লাইট ও ৪৫টি ফ্যান চালানো সম্ভব হবে। ফলে বিদ্যুৎ চলে গেলেও হাসপাতালের জরুরি বিভাগসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে আলো ও ফ্যান সচল রাখা যাবে।
এতে প্রচণ্ড গরমে আর রোগীদের কষ্ট পেতে হবে না।
সরকারি এই হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগী আসলাম হোসেন বলেন, আগে হাসপাতালে রোগী ভর্তি হলে যখন বিদ্যুৎ চলে যেত, তখন চরম দুর্দশার মধ্যে পড়তাম। তখন গরমে কি যে কষ্ট হতো, তা বলে বোঝানো যাবে না। এখন থেকে ২৪ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ মিলবে। বিদ্যুৎ গেলেও এক সেকেন্ডের জন্য আলো-ফ্যান বন্ধ হবে না—এটা জেনেই ভালো লাগছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রঞ্জন বর্মণ বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পক্ষ থেকে ইসলামী হাসপাতালের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। আমরা দীর্ঘদিন ধরে সোলার সমস্যায় ভুগছিলাম। যখন বিদ্যুৎ চলে যেত, তখন আমাদের ইনডোর, আউটডোর এবং বিভিন্ন ওয়ার্ডে সেবা প্রদান করতে যথেষ্ট কষ্ট পোহাতে হতো, রোগীরা অনেক কষ্ট পেত। ইসলামী হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোশাররফ হোসেনের আন্তরিক সদিচ্ছার কারণে এবং দ্রুততার সঙ্গে আমাদের জন্য এই হাসপাতালে একটা সোলার ইনভার্টারের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। এখন বিদ্যুৎ চলে গেলেও রোগীদের সেবা প্রদানে আর ব্যত্যয় ঘটবে না।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার আল এমরান খাঁন বলেন, একটি প্রাইভেট হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কোনো প্রতিযোগিতা বা জেলাসি ফিল না করে উল্টো সরকারি হাসপাতালের রোগীদের ভোগান্তি কমাতে সোলার প্যানেল উপহার দিল, এটি অবশ্যই প্রশংসনীয়। আমার কাছে এটি বিরল ঘটনা। যেখানে সরকারি হাসপাতালের রোগী ভাগিয়ে নেওয়ার অভিযোগ আসে বেসরকারি হাসপাতালের বিরুদ্ধে, সেখানে সরকারি হাসপাতালের রোগীদের জন্য এগিয়ে এলো বাঞ্ছারামপুর ইসলামী হাসপাতাল।