
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি বলেছেন, ‘বর্তমান সময়ের চাহিদা অনুযায়ী কৃষিকে আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়ায় শৈল্পিক রূপ দিতে হবে। কৃষির আধুনিকায়ন এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় প্রযুক্তিনির্ভর কৃষি ব্যবস্থার কোনো বিকল্প নেই।
শনিবার (৪ জুলাই) দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে ফ্লাড রিকনস্ট্রাকশন ইমার্জেন্সি অ্যাসিসট্যান্স প্রজেক্ট (ফ্রিপ) প্রকল্পের আওতায় আয়োজিত তিন দিনব্যাপী কৃষি প্রযুক্তি মেলার ভার্চুয়াল উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, সনাতন কৃষি পদ্ধতি থেকে বের হয়ে কৃষকদের যান্ত্রিকীকরণ ও আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচিত করতে এ ধরনের মেলা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি ছাদ কৃষি, আধুনিক সেচ ব্যবস্থা এবং ক্ষতিকর কীটনাশকের বিকল্প হিসেবে পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ব্যবহারে গুরুত্বারোপ করেন।
জোনায়েদ সাকি আরো বলেন, ‘বাঞ্ছারামপুরে এখনো অনেক জমি অনাবাদি রয়েছে। কৃষির বহুমুখীকরণের সুফল না পাওয়ায় বর্তমান প্রজন্ম কৃষিকাজ থেকে বিমুখ হয়ে অন্য পেশায় যুক্ত হচ্ছে বা বিদেশে পাড়ি দিচ্ছে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে কৃষি বিভাগকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে অনুষ্ঠিত মেলার উদ্বোধনে ফিতা কাটেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আবদুল্লাহ আল মামুন। এ সময় উপজেলা বিএনপি, গণসংহতি আন্দোলনের নেতাকর্মী, বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, সাংবাদিক এবং প্রান্তিক পর্যায়ের কৃষকরা উপস্থিত ছিলেন।
উদ্বোধন শেষে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়।
মেলায় আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি, উদ্ভাবনী চাষাবাদ পদ্ধতি, উন্নত জাতের ফসল, নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন, সেচ প্রযুক্তি এবং কৃষিসেবাভিত্তিক ১৩টি স্টল স্থান পেয়েছে। বিভিন্ন স্টলে কম্বাইন হারভেস্টার, রাইস ট্রান্সপ্লান্টার, পাওয়ার টিলারসহ আধুনিক কৃষিযন্ত্র, উচ্চ ফলনশীল ফসলের জাত, জৈব সার তৈরির প্রযুক্তি এবং বিভিন্ন ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা প্রদর্শন করা হচ্ছে। ফলে কৃষকরা সরাসরি এসব প্রযুক্তি ও সেবা সম্পর্কে জানার সুযোগ পাচ্ছেন।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত মেলা চলবে।
সমাপনী অনুষ্ঠান ও পুরস্কার বিতরণের মধ্য দিয়ে তিন দিনব্যাপী এ কৃষি প্রযুক্তি মেলার পর্দা নামবে।
Leave a Reply