1. bditwork247@gmail.com : Zahid Hassan : Zahid Hassan
  2. mosharraf1419@gmail.com : peoplesvoicebd :
July 5, 2026, 6:19 pm

সুজন অমর সুজন প্রতীক সুজন প্রেরণা

Reporter Name
  • Update Time : Sunday, July 5, 2026
  • 7 Time View

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ বাঞ্ছারামপুরের মা মাটি মানুষের নেতা, সাবেক সংসদ সদস্য, সারা বাংলায় জনপ্রিয় জাতীয়তাবাদী তুখোড় ছাত্রনেতা মরহুম শাহজাহান হাওলাদার সুজন স্মরণে বিনম্র শ্রদ্ধাঞ্জলি।

আজ ৩রা জুলাই ২০২৬ইং সাবেক এমপি মরহুম শাহজাহান হাওলাদার সুজনের ২৫তম মৃত্যুবার্ষিকী। এ উপলক্ষে সুজন স্মৃতি পরিষদ, স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠন তাকে গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছে। প্রতি বছর সমাধিতে তার অনুসারীরা ফাতেহা পাঠ, দোয়া ও তাবারক বিতরণ করে। বিএনপি সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দও ও সামাজিক সংগঠন নানা সময়ে তার সমাধিতে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করে।
১৯৬৭ সালে জন্মানো ২০০১ সালে নিহত না হলে আজ তার বয়স হতো ৫৯ বছর। মাত্র ৩৫ বছর বয়সেই ঝরে যায় সম্ভাবনাময় সুদর্শন ও সুবক্তা এই ক্ষণজন্মা তরুণ। তার সমসাময়িক নেতৃবৃন্দ আজ কেন্দ্রীয় বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন। বেঁচে থাকলে তিনিও হয়তো আজ জাতীয় পর্যায়ে নেতৃত্ব দিতেন। তিনি প্রথমবার মাত্র ২৭ বছর বয়সে জাতীয়তাবাদী দলের সর্বকনিষ্ঠ সংসদ সদস্য হওয়ার রেকর্ড করেন। বাঞ্ছারামপুরবাসী জাতীয় নেতা হারানোর শোক বহন করছে আজ।

বাংলাদেশের সেরা বিদ্যাপীঠ প্রাচ্যের অক্সফোর্ড ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগ থেকে সে অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করেছিলেন। সে হাজী মোহাম্মদ মহসিন হল, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের প্রাক্তন নির্বাচিত ভিপি ছিলেন। স্বৈরাচার এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে অনন্য ও বলিষ্ঠ ভূমিকার জন্য চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন। অসাধারণ বাগ্মিতার জন্য সাবেক প্রধানমন্ত্রী বিএনপির চেয়ারপারসন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া তাকে অত্যন্ত স্নেহ করতেন, বিভিন্ন জায়গায় সফর সঙ্গী নিতেন। তারুণ্যের অহংকার দেশ নায়ক তারেক রহমানও তাকে ভাইয়ের মত স্নেহ করতেন। সমসাময়িক নেতৃবৃন্দ, বন্ধুবান্ধব ও শুভাকাঙ্খিদের মুখে তার গল্প শোনা যায়।

তিনি ১৯৯৪ সালের উপনির্বাচনে (বিএনপির সাংসদ এটিএম ওয়ালী আশরাফের মৃত্যুর পর) ও ফেব্রুয়ারি ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে (পরপর দুইবার) ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬-বাঞ্ছারামপুর আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের হয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।

২০০১ সালের ৩রা জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দোয়েল চত্ত্বরের পাশে পাওয়া গেল রূপসদী গ্রামের ক্ষণজন্মা কৃতি সন্তান সুজনের লাশ। আজ ২০২৪ সালেও পাওয়া গেল না তার হত্যাকারীদের আসল পরিচয়, ধোঁয়াশাপূর্ণ তার হত্যাকারীদের ইতিহাস।

যতদূর জানা যায়, ৩রা জুলাই ২০০১ সালে দলীয় রাজনৈতিক কোন্দলের ফলে আততায়ীর ছুরিকাঘাতে ঢাকায় নির্মমভাবে মৃত্যুবরণ করেন। তার স্মৃতি স্মরণীয় করে রাখার নিমিত্তে ২০০১ সালে ‘সুজন স্মৃতি পরিষদ’ ও ২০০২ সালে সুজন দুলু স্মৃতি কলেজ প্রতিষ্ঠা করা হয় যা বর্তমানে ‘সুজন স্মৃতি কলেজ’ নামে পরিচিত।
শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বীর উত্তমের নীতি, আদর্শ ও বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদী দর্শনে বিশ্বাসী মরহুম সুজন জীবদ্দশায় কোন রক্তচক্ষুকে ভয় পাননি এবং আমৃত্যু দলীয় আদর্শে অবিচল ছিলেন। যদিও রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে জাতীয়তাবাদী দল থেকে বহিষ্কৃত হয়েছিলেন।

২০০১ সালে তেজগাঁও পুলিশ স্টেশনে দায়ের হয় সুজন হত্যা মামলা, চলতে থাকে তদন্ত, ২০০৩ সালে তদন্তকারী সংস্থা সিআইডি সন্দেহভাজনদেরকে নির্দেশ করে বিচারিক আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। ২০০৪ সালে ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইবুনাল অভিযুক্ত আসামী ১. কাজল আহমেদ জালালীকে মৃত্যুদণ্ড এবং ২. ড. রওশন আলম, ৩ হুমায়ুন কবির ওরফে ফুল মিয়া, ৪. জিয়া উদ্দিন ওরফে বায়েস এবং ৫. ইব্রাহিম নুর ওরফে অপু, এই চারজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং অন্যান্যদেরকে খালাস প্রদান করে রায় প্রদান করে। ২০০৭ সালে সুপ্রিম কোর্টের মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগ অত্র মামলায় ট্রাইব্যুনালের রায় বাতিল করে সকল অভিযুক্তদেরকে বেকসুর খালাস প্রদান করেন।

উচ্চ আদালতের রায় অনুসারে অভিযুক্তরা নিজেদেরকে নির্দোষ বলে দাবি করে যা দালিলিক সত্য হলেও প্রকৃত সত্য হয়তো একদিন চাপা থাকবে না।

নিন্দুকেরা আপনার প্রাণ নিয়েছে ঠিকই কিন্তু কেড়ে নিতে পারেনি আপনার জীবন ও কর্মের প্রেরণা, এই প্রেরণাই আপনাকে বাঁচিয়ে রাখবে হাজারো মনে, প্রাণে, গানে, যুগে যুগে। তাই, সুজন ভাই আমাদের প্রেরণা, সুজন ভাইয়ের স্মৃতি ও পরিবারের প্রতি সকলেই সুবিচার করে যাবে, এই প্রত্যাশা করি।

সুজন নামটি অজর অমর অক্ষয়, সুজন বিএনপি ও ধানের শীষের প্রতীক, সুজনের জীবন ও কর্ম জাতীয়তাবাদী আদর্শ অনুসারীদের প্রেরণা। সুজন ফিরে আসবে রাজনীতির কবি হয়ে, আসবে হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালার মত, আসবে জনতার সম্রাট হয়ে যখন তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানাবে হাজারো জনতা।

সুজন অমর, সুজন প্রতীক, সুজন প্রেরণা হয়ে ফিরে আসুক বারবার প্রতিবার তিতাসের তীরে, রূপসদীর নীড়ে, সুজন স্মৃতি কমপ্লেক্সে।

আজ আমরা তার রুহের মাগফিরাত কামনা করছি। আল্লাহ তাকে জান্নাতবাসি করুন।

 

অনুলিখন: মীর হালিম
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সদস্য।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2026
Themes By ShimantoIT.com