
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলা শিক্ষা অফিসে সিলিং ফ্যান পড়ে সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার খাদিজা আক্তার আহত হওয়ার ঘটনায় পুরো উপজেলায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। একজন কর্মকর্তার অফিস কক্ষের যদি এই বেহাল দশা হয়, তাহলে উপজেলার ১৩৯ টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবনের কি অবস্থা – এমন প্রশ্ন তুলেছেন সচেতন মহল ও অভিভাবকরা।
সোমবার সকাল ১১টার দিকে উপজেলা শিক্ষা অফিসে কর্মরত অবস্থায় হঠাৎ একটি পুরনো সিলিং ফ্যান খুলে খাদিজা আক্তারের মাথার ওপর পড়ে। এতে তার মাথা ফেটে যায় এবং ৬টি সেলাই লাগে। বর্তমানে তিনি ঢাকায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এই ঘটনার পর থেকে শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক প্রধান শিক্ষক জানান, উপজেলা শিক্ষা অফিস হচ্ছে সকল স্কুলের অভিভাবক। সেই অফিসের আসবাবপত্র, ফ্যান, ছাদ যদি জরাজীর্ণ ও ভাঙ্গাচোরা থাকে, তাহলে মাঠ পর্যায়ের ১৩৯ টি স্কুলের কোমলমতি শিক্ষার্থীরা কতটা ঝুঁকিতে আছে তা সহজেই অনুমেয়।
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, বাঞ্ছারামপুরের অনেক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন দীর্ঘদিনের পুরনো, ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ছে, ফ্যান নড়বড়ে হয়ে আছে। যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
অভিভাবকরা বলেন, “আজ অফিসারের মাথায় ফ্যান পড়েছে, কাল কোনো স্কুলে কোনো বাচ্চার মাথায় পড়বে না তার কি নিশ্চয়তা আছে?”
এ বিষয়ে দ্রুত উপজেলা শিক্ষা অফিসসহ উপজেলার ১৩৯ টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন ও বৈদ্যুতিক সরঞ্জামাদি পরিদর্শন করে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
Leave a Reply