
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার সোনারামপুর ইউনিয়নে গোফনদী কাটা বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সোনারামপুর বাজারে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এতে সোনারামপুরের সর্বস্তরের মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, মেঘনার শাখা গোফনদী সোনারামপুরের মানুষের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা একটি গুরুত্বপূর্ণ নদী। স্থানীয় মানুষের কাছে এটি শুধু একটি নদী নয়, বরং এলাকার পরিবেশ, যোগাযোগ ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রার সঙ্গে সম্পর্কিত একটি গুরুত্বপূর্ণ জলপথ।
আয়োজকদের দাবি, গোফনদী কোনো সরকারি নদী নয়। তারপরও নদীটি কাটা হলে এর আশপাশে বসবাসকারী মানুষের বাড়িঘর ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ঝুঁকির মুখে পড়বে। বিশেষ করে নদীর তীরবর্তী এলাকায় যেসব পরিবার বসবাস করছে, তাদের মধ্যে এ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, গোফনদী তাদের কাছে ‘প্রাণের নদী’। এ নদীর সঙ্গে এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক রয়েছে। নদীটি কাটা বা এর স্বাভাবিক গতিপথে পরিবর্তন আনা হলে এর বিরূপ প্রভাব শুধু নদীর ওপর নয়, আশপাশের বসতবাড়ি ও পরিবেশের ওপরও পড়তে পারে।
বক্তারা আরও বলেন, গোফনদী কাটা হলে যারা নদীর পাশে বসবাস করেন, তারা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়বেন। তাই স্থানীয় মানুষের নিরাপত্তা ও পরিবেশের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে নদী কাটাতে দেওয়া যাবেনা।”
তারা আরও বলেন, একটি এলাকার উন্নয়ন করতে গিয়ে যদি সেই এলাকার মানুষের বসতবাড়ি, পরিবেশ ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা হুমকির মুখে পড়ে, তাহলে সেটি কোনোভাবেই কাম্য নয়। তাই গোফনদী নিয়ে যেকোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে আলোচনা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যথাযথ তদন্তের দাবি জানান তারা।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, গোফনদী কাটা হলে নদীর আশপাশের বসতবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি এলাকার পরিবেশের ভারসাম্যও নষ্ট হবে। নদীর স্বাভাবিক পানি প্রবাহ ও আশপাশের পরিবেশের ওপর এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কাও প্রকাশ করেন তারা।
এ সময় স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, “এই নদী আমাদের এলাকার মানুষের জীবন ও পরিবেশের সঙ্গে মিশে আছে। আমরা চাই না কোনো সিদ্ধান্তের কারণে আমাদের বাড়িঘর ও জনজীবন ঝুঁকির মধ্যে পড়ুক। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যেন বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখে এবং স্থানীয় মানুষের দাবি বিবেচনা করে।” কর্মসূচিতে সোনারামপুরের সর্বস্তরের জনসাধারণ উপস্থিত ছিলেন।
Leave a Reply