
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে জুয়েল মিয়া (৩৫) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন।
এ ঘটনায় গুলিবিদ্ধ ও টেঁটাবিদ্ধসহ অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। সোমবার রাত সাড়ে ৩ টার দিকে উপজেলার সোনারামপুর ইউনিয়নের শান্তিপুর গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
সংঘর্ষ চলাকালে একাধিক রাউন্ড গুলিবর্ষণ ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে ঘটনাস্থল থেকে একটি বন্দুক, পাঁচটি তাজা ককটেল ও পাঁচটি গুলি উদ্ধার করা হয়।
নিহত জুয়েল মিয়ার বাড়ি নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার নিলক্ষা ইউনিয়নের গোপিনাথপুর গ্রামে। তার বাবার নাম ছেন্টু মিয়া। আহতদের মধ্যে ফারুক মিয়া, সোহেল মিয়া, শাহপরান, খোকন মিয়া, লালু মিয়া, ফজর আলী, বকুল মিয়া, আশরাফুল, হাবি মিয়া, সুমন মিয়া, আলমগীর হোসেন ও স্বাধীন মিয়ার নাম জানা গেছে। আহতদের বাঞ্ছারামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও নরসিংদী জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। গুরুতর আহত স্বাধীন মিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, শান্তিপুর গ্রামের সেবু সরকার বাড়ি ও আজগর আলী সরকার বাড়ির লোকজনের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিরোধ চলে আসছে। এর জেরে গত ৩০ জুন দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। ওই ঘটনার পর সেবু সরকারের বাড়ির লোকজন এলাকা ছেড়ে অন্যত্র অবস্থান করছিলেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, সোমবার রাত ৩টার দিকে সেবু সরকারের বাড়ির লোকজন এলাকায় ফিরলে দুই পক্ষের মধ্যে ফের উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে উভয়পক্ষ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় গুলিবর্ষণ ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে গুলিবিদ্ধ ও টেঁটাবিদ্ধ হয়ে অন্তত ২৫ জন আহত হন। পরে আহতদের উদ্ধার করে বাঞ্ছারামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক জুয়েল মিয়াকে মৃত ঘোষণা করেন।
গ্রাম পুলিশ আব্দুর রহমান বলেন, রাত ৩টা ২০ মিনিটের দিকে ককটেল বিস্ফোরণের শব্দ শুনে ঘুম থেকে উঠি। এ সময় গুলির শব্দও শুনতে পাই। মুক্তার হোসেনের পক্ষের লোকজনের সঙ্গে আজগর আলী বাড়ির লোকজনের সংঘর্ষ হচ্ছিল। আমি দুজন আহত ব্যক্তিকে হাসপাতালে নিয়ে আসি। তাদের মধ্যে একজন মারা গেছেন।
আজগর আলী সরকার বাড়ির ইসমাইলের অভিযোগ, রাত সাড়ে ৩টার দিকে মতি মিয়ার ছেলে মোক্তার হোসেনের নেতৃত্বে বহিরাগত লোকজন অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ডাকাতি করতে আমাদের গ্রামে হামলা চালায়। তাদের গুলি ও ককটেলের আঘাতে আমাদের অনেকে আহত হয়েছেন। পরে গ্রামবাসী তাদের ধাওয়া দিলে তারা পালিয়ে যায়।
একই বাড়ির ইমরান বলেন, দেড় থেকে দুইশ লোক নিয়ে গভীর রাতে আমাদের বাড়িতে ডাকাতি করতে হামলা করা হয়। আমরা তাদের প্রতিহত করেছি। এ সময় দুজনকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে সেবু সরকার বাড়ির মোক্তার হোসেন বলেন, আমরা বাড়িতে গেলে আজগর আলী সরকার বাড়ির লোকজন আমাদের ওপর হামলা করে। এতে আমাদের ১০ থেকে ১৫ জন আহত হয়েছেন। জুয়েল নামে একজন নিহত হয়েছেন। আমাদের সঙ্গে কোনো বহিরাগত ছিল না।
বাঞ্ছারামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার লিটন আব্দুল্লাহ বলেন, জুয়েল মিয়া হাসপাতালে আসার আগেই মারা যান। আহত স্বাধীন মিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতা প্রেরন করা হয়।
বাঞ্ছারামপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ ইয়াছিন বলেন, এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে রাতে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে জুয়েল মিয়া নামে একজন নিহত হয়েছেন। আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন। ঘটনাস্থল থেকে একটি বন্দুক, পাঁচটি তাজা ককটেল ও পাঁচটি গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।
Leave a Reply