
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে ২ ব্যক্তির কথা-কাটাকাটি থামাতে গিয়ে পুলিশ সদস্যের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। হামলাকারীরা সবাই মদ্যপ অবস্থায় ছিলো বলে জানা গেছে। এতে টহলরত ৪ পুলিশ সদস্য আহত হয়। রোববার (২ আগস্ট) দিবাগত রাত সাড়ে ৩টায় উপজেলার ছয়ফুল্লাকান্দি ইউনিয়নের মাছিমনগর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
আহত পুলিশ সদস্যরা হলেন- বাঞ্ছারামপুর থানার কনস্টেবল মো. ফরহাদ হোসেন , এমদাদুল হক, সাইফুল আলম ও হোসনে মোবারক। এছাড়াও ওরশের জেনারেটর চালক রেজন মিয়া নামে এক বৃদ্ধ গুরুতর আহত হন।
ঘটনার পর আহত পুলিশ সদস্যরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন।
বাঞ্ছারামপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ ইয়াসিন জানায়, গত ২৯ জুলাই মাছিমনগর গ্রামে হযরত শাহ রাহাত আলীর (রা.) এর বার্ষিক ওরশ শুরু হয়। ওরশে স্থানীয় মনির হোসেন নামে এক ব্যক্তি তার দোকানের জন্য রেজন মিয়ার কাছ থেকে জেনারেটরের বিদ্যুৎ সংযোগ ভাড়া নেন। রোববার রাতে বিল পরিশোধ নিয়ে মনির ও রেজন মিয়ার মধ্যে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে উত্তেজনা দেখা দেয়।
এসময় স্থানীয় বাসিন্দা মামুন মিয়া, মনিরের পক্ষ নিয়ে টহলরত ৪ পুলিশের উপর হামলা চালায়।এসময় রাহাত আলী স্কুলের আসবাবপত্র ভাংচুর করে।
খবর পেয়ে ৪০ সদস্যের রিজার্ভ পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে।
এ প্রসঙ্গে জেনারেটর চালক রেজন মিয়ার বলেন, ওরশে মামুন বাহিনীর এমন হামলা ছিল নজিরবিহীন। তারা ৮/১০ মিলে নেশা করে পুলিশের উপর হামলা করে।আমি পুলিশ সদস্যদের রক্ষা করতে গেলে আমাকেও বেদম মারধোর করে।
বাঞ্ছারামপুর মডেল থানা সূত্রে জানা গেছে, পুলিশের উপর হামলা ও আহতের ঘটনায় চিহ্নিত ১৫ জন ও অজ্ঞাত আরো ৫০/৬০ জনকে আসামী করে মামলা করা হয়েছে। অভিযুক্ত মামুন, মনিরসহ জড়িতদের আটক করতে পুলিশের একাধিক টিম চেষ্টা চালাচ্ছে।
জেলা পুলিশ সুপার শাহ মোহাম্মদ আব্দুর রউফ বলেন ,” বিষয়টি নিয়ে মামলা হয়েছে।অপরাধীরা পালিয়ে রক্ষা পাবে না।পুলিশ এবিষয়ে কঠোর পদক্ষেপ নিবে।”
ওরশ কমিটির সভাপতি ও বাঞ্ছারামপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার তারিকুল ইসলাম বলেন, ” এটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা।নেশা করে পুলিশের উপর হামলা, এটা মেনে নেয়া যায় না।পুলিশ তার আইননুসারে ব্যবস্থা নিবে’।
অভিযুক্ত একাধিক ব্যক্তির সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া গেছে।
এ ঘটনায় নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া ছড়িয়ে পড়েছে এলাকাজুড়ে। পুলিশ সদস্যদের আহত হওয়ার বিষয়টি পুলিশের নিরাপত্তাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে বলে মনে করছেন তারা। দোষীদের বিচারের আওতায় আনার দাবিও জানিয়েছে অনেকে।
Leave a Reply