
বাঞ্ছারামপুরে চাঁদা না পেয়ে ইতালি প্রবাসীকে অপহরণের চেষ্টা, তথ্য সংগ্রহে গেলে সাংবাদিকদের হুমক
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে চাঁদা না পেয়ে এক ইতালি প্রবাসীকে মারধর করে অপহরণের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার সংবাদ সংগ্রহে গেলে স্থানীয় পাঁচ সাংবাদিককেও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ করেছেন তারা। বুধবার (২২ জুলাই) বিকেল ৫টার দিকে উপজেলার মোল্লাবাড়ি ব্রিজ ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, ইতালি প্রবাসী জামাল মিয়ার কাছে ৭০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন সাজু ও বাঞ্ছারামপুর পৌর যুবদলের আহ্বায়ক ইমান আলী। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁকে মারধর করে একটি অটোরিকশায় তুলে অপহরণের চেষ্টা করা হয় সাজু ইমান আলী সহ কয়েকজন। পরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনেও তাঁকে মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ সময় বাঞ্ছারামপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি মোল্লা মো. নাসির আহমেদ (আমার দেশ), সাধারণ সম্পাদক শামীম শিবলী ভোরের কাগজ, সিনিয়র সহসভাপতি ফয়সল আহমেদ খান (কালের কণ্ঠ), সদস্য আতিকুর রহমান লিটন (দৈনিক প্রবাহ) ও আলী আহম্মেদ (দৈনিক আজকের বাংলা) সংবাদ সংগ্রহে গেলে ভুক্তভোগী জামাল মিয়া তাঁদের দেখে ‘বাঁচাও, বাঁচাও’ বলে চিৎকার করেন। এতে সাংবাদিকরা অটোরিকশাটি থামাতে বাধ্য হন।
সাংবাদিকদের অভিযোগ, এ সময় সাজু, পৌর যুবদল আহ্বায়ক ইমান আলী সহ কয়েকজন তাঁদের সংবাদ প্রকাশ না করতে এবং ধারণ করা ভিডিওচিত্র মুছে ফেলতে হুমকি দেন।
স্থানীয় সূত্রে আরও জানা যায়, অভিযুক্ত সাজুর বিরুদ্ধে হত্যা, চাঁদাবাজি, মাদক ও ডাকাতিসহ একাধিক মামলা রয়েছে। ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে পুলিশ সাজু ও আকাশ নামে দুজনকে আটক করে। অপহরণের সময়কার একটি ভিডিওতেও লাল গেঞ্জি পরা এক অজ্ঞাত ব্যক্তিকে দেখা গেছে বলে দাবি করা হচ্ছে।
সাংবাদিকদের হুমকির ঘটনায় বাঞ্ছারামপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি কৃষিবিদ মেহেদী হাসান পলাশ, সাধারণ সম্পাদক ভিপি এ কে এম মুছাসহ স্থানীয় সাংবাদিক নেতারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
এঘটনায় বর্তমানে সাজু ও আকাশ নামে দুইজনকে আটক করেছে বাঞ্ছারামপুর মডেল থানা পুলিশ।
সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, ভুক্তভোগী জামাল মিয়া এবং বাঞ্ছারামপুর প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছিল।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা যুবদলের সভাপতি মোঃ শামীম মোল্লা বলেন, সাংবাদিকরা তথ্য সংগ্রহ করবেন, সেটিই স্বাভাবিক। যুবদলের কোনো নেতা যদি অপহরণ বা অন্য কোনো অপরাধে জড়িত থাকেন, তাহলে কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অপরাধীর কোনো দল নেই।
জেলা যুবদলের সাধারন সম্পাদক ইয়াছিন মাহমুদ বলেন,আমরা আপনাদের মাধ্যমে জেনেছি তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বাঞ্ছারামপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইয়াছিন বলেন, “অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ পেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
Leave a Reply